ঢাকা , শনিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৫ , ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ই-পেপার
সংবাদ শিরোনাম
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে বড় আঘাত গণতান্ত্রিক স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশের প্রতি সমর্থন মোদির দুর্নীতি প্রতিরোধে কাজ করতে বাংলাদেশ-থাইল্যান্ড এমওইউ মোদীকে দশ বছর আগের কথা মনে করিয়ে ছবি উপহার ইউনূসের নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ-ভারত বাস চালকের হদিস মেলেনি আহত শিশু আরাধ্যকে ঢাকায় হস্তান্তর নিহত বেড়ে ১১ স্বস্তির ঈদযাত্রায় সড়কে ঝরলো ৬০ প্রাণ চালের চেয়েও ছোট পেসমেকার বানালেন মার্কিন বিজ্ঞানীরা আ’লীগের নেতাদের রাজকীয় ঈদ উদযাপনে ক্ষুব্ধ কর্মীরা আন্দোলনে ফিরবেন বেসরকারি কলেজ শিক্ষকরা মাদারীপুরে আগুনে পুড়ল ২ বাড়ি ভৈরবের ত্রি-সেতুতে দর্শনার্থীদের ভিড় বর্ষবরণের আয়োজন, পাহাড়ে উৎসবের রঙ ঈদের আমেজ কাটেনি বিনোদন স্পটে ভিড় আ’লীগকে নিষিদ্ধ করা বিএনপির দায়িত্ব নয় নতুন নিয়মে বিপাকে ট্রাভেল এজেন্সিগুলো ঈদের আগে বেতন-বোনাস পেয়ে স্বস্তিতে সাড়ে ৩ লাখ এমপিওভুক্ত শিক্ষক ঈদযাত্রায় সদরঘাটে চিরচেনা ভিড় মিয়ানমারে ভূমিকম্পে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা
সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি

দেশের ১৩ জেলা ম্যালেরিয়াপ্রবণ

  • আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৪ ১০:৫৯:৫২ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৪ ১০:৫৯:৫২ অপরাহ্ন
দেশের ১৩ জেলা ম্যালেরিয়াপ্রবণ
বাংলাদেশে মশাবাহিত রোগ ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা দিনদিন বেড়েই চলেছেএটি নিয়ন্ত্রণে নানা ধরণে উদ্যোগ নেওয়া হলেও সেগুলো খুব একটা কাজে আসছে নাস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত ১০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তিন বছর আগেও যেখানে পরিস্থিতি উন্নতির দিকে ছিল, কিন্তু সর্বশেষ দুই বছরে নতুন করে বাড়ছে মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যাস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ২০১৪ সালের পর থেকে আস্তে আস্তে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে ২০২১ সাল পর্যন্ত কমেছেকিন্তু ২০২২ এবং ২০২৩ সালে সে সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করেযদিও আক্রান্তের হিসেবে মৃত্যুর সংখ্যা খুবই কমসরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ম্যালেরিয়া নির্মূলের লক্ষ্য গ্রহণ করলে তা অর্জনের বদলে প্রতিবছর বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাসরকারের ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের পরবর্তী চার বছরে রোগী বেড়েছে কয়েক গুণএরমধ্যে ২০২২ সালে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ছিল সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ১৯৫ জনঅন্যদিকে মৃত্যু হয়েছিল ১৪ জনেরএর তুলনায় গত বছর, ২০২৩ সালে আক্রান্ত কিছুটা কমে হয়েছিল ১৬ হাজার ৫৬৭ জন, আর মৃত্যু হয়েছে ৬ জনের২০২১ সালে আক্রান্ত হয় ৭ হাজার ২৯৪ জন ও মৃত্যু হয় ৯ জনের২০২০ সালে আক্রান্ত ছিল ৬ হাজার ১৩০ জন ও মৃত্যু ৯ জনের। । অন্যদিকে চলতি বছরের প্রথম তিন মাসেই ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ১৫৮ জনআক্রান্তদের সবচেয়ে বেশি রাঙ্গামাটিতে, ৪৩ শতাংশ৪০ শতাংশ বান্দরবান ও ১২ শতাংশ কক্সবাজারেএসময়ে মারা গেছেন দুজনএমন পরিস্থিতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেশের ১৩টি জেলাকে ম্যালেরিয়াপ্রবণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছেএগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে আছে বান্দরবান ও রাঙ্গামাটিএছাড়া নিম্নঝুঁকি এলাকার মধ্যে রয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, শেরপুর, ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, কুড়িগ্রাম, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারসরকারের ম্যালেরিয়া নির্মূল ও এডিসবাহিত রোগনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির তথ্য অনুযায়ী, বান্দরবান এলাকায় সবচেয়ে বেশি ম্যালেরিয়া আক্রান্ত রোগী পাওয়া যায়তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২৩ সালে দেশে মোট ম্যালেরিয়া রোগীর ৬০ দশমিক ৩৭ শতাংশ ছিল বান্দরবানেএর আগে ২০২২ সালে ৭৫ দশমিক ৯ শতাংশ ও ২০২১ সালে ৭১ দশমিক ৭ শতাংশ রোগী ছিল বান্দরবানেরঅন্যদিকে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা রাঙ্গামাটিতে ২০২৩ সালে ২৮ দশমিক ৪৫ শতাংশ, ২০২২ সালে ১৭ দশমিক ৭ শতাংশ ও ২০২১ সালে ২১ দশমিক ৩ শতাংশ রোগী ছিলএদিকে বাংলাদেশের তিন পার্বত্য জেলা এবং সীমান্তবর্তী ১৩টি জেলাকে ম্যালেরিয়া প্রবণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়কিন্তু সম্প্রতি ঢাকাতেও ম্যালেরিয়াবাহী অ্যানোফিলিস মশার অস্তিত্ব মিলেছে বলে জানাচ্ছেন গবেষকেরাঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশা ও সেই মশার লার্ভা খুঁজতে গিয়ে অ্যানোফিলিস মশা ও মশার লার্ভা পেয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের একদল গবেষকএ বিষয়ে দলটির প্রধান ডা. কবিরুল বাশার জানান, ঢাকায় ম্যালেরিয়ার বাহক পাওয়া আমাদের মাঝে নতুন শঙ্কার বিষয়আমরা ডিএনসিসির যে এলাকা থেকে মশার লার্ভা পেয়েছি সেখানে পূর্ণাঙ্গ অ্যানোফিলিস মশা ও মশার লার্ভা পাওয়া গেছেএছাড়া আরও অনেক লার্ভা আছে সেখানেজাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথভাবেই ম্যালেরিয়া নির্মূলে একসঙ্গে কাজ করতে হবেএছাড়া দূর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যেখানে সবার যাওয়া সম্ভব হয় না, সেখানকার মানুষকে প্রশিক্ষিত করতে হবেপাহাড়ি এলাকাগুলোয় যারা বাহিরে কাজ করে থাকে সেখানে মশারি ব্যবহারের সুযোগ থাকে নাতাদের ম্যালেরিয়া থেকে বাঁচাতে নতুন করে সমাধান দিতে হবেযেমন তারা মশার কামড় থেকে বাঁচতে মশানিরোধক ক্রিম ব্যবহার করতে পারেনতিনি বলেন, অন্যদিকে মশা ও মানুষের জীবনে বৈচিত্র্য এলেও ম্যালেরিয়া নির্মূলের পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনিএ কারণেই সম্ভব হচ্ছে না মশা নির্মূল কিংবা রোগীর সংখ্যা কমিয়ে আনাম্যালেরিয়া নির্মূল করতে হলে প্রথমে গতানুগতিক পদ্ধতির পরিবর্তন জরুরিঅন্যথায় গতানুগতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে ম্যালেরিয়া নির্মূল করা সম্ভব নয়স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রোগ্রাম ম্যানেজার (ম্যালেরিয়া ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. ম ম আক্তারুজ্জামান বলেন, নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আমরা আশাবাদীসেই লক্ষ্যেই কাজ করছিতবে আমাদের মূল চ্যালেঞ্জ হলো পার্বত্য তিন জেলাএরমধ্যে সবচেয়ে বেশি ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ রোগী বান্দরবানেআমাদের দেশের নির্দিষ্ট সীমান্ত রয়েছে কিন্তু সীমান্তবর্তী এলাকায় ঝুঁকি এবং প্রকোপ অনেক বেশিআমরা যদি আগতরতলাসহ বিভিন্ন সীমান্তবর্তী ক্রসগুলো ভালোভাবে মোকাবিলা করতে পারি, তাহলে টার্গেট অনুযায়ী নিদিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সমস্যা হবে নাএই চিকিৎসক আরও বলেন, রোগী না কমার পেছনে একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকিছু এলাকা আছে যেখানে রোগী শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে নাআমরা ওয়ান থ্রি সেভেন ফর্মূলা অনুযায়ী কাজ করছিঅর্থাৎ, ম্যালেরিয়া রোগের শনাক্তকরণ করতে হবে একদিনের মধ্যে, ৩ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে ম্যালেরিয়া নিশ্চিত করে রিপোর্ট দিতে হবে এবং ৭ দিনের মধ্যে আশপাশে কোনো রোগী আছে কি না তারও খোঁজ নিতে হবেএ ফর্মূলা ব্যবহার করে চীন ম্যালেরিয়া নির্মূল করেছেপ্রতিটি রোগী আমরা ফলো করছিগবেষণা ও সার্ভিল্যান্স বৃদ্ধি করাসহ বিনামূল্যে মশারি এবং ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছেতবে দেশে ম্যালেরিয়া নির্মূলে সরকারিভাবে গতানুগতিক নানান উদ্যোগ নেওয়া হলেও মশা ও মানুষের জীবনাচরণ পরিবর্তনে তা কোনোভাবে কাজেই আসছে নাজনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময়োপযোগী উদ্যোগের অভাবে ২০৩০ এর মধ্যে সরকারের জিরো ম্যালেরিয়ালক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারবে নাসরকার ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ম্যালেরিয়া পুরোপুরিভাবে নির্মূলের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেএ জন্য সরকার নানা কর্মসূচি পালন করলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যবস্থাপনাসহ নানা দুর্বলতার কারণে আগামী ছয় বছরের মধ্যে এ লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব নয়
 

নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata

কমেন্ট বক্স